ইতিহাসের এই দিনে

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-এরমৃত্যুবার্ষিকী

ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলার নারীদের মধ্যে যিনি প্রথম নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁর নাম প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।আজ, ২৩সেপ্টেম্বর, তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী।

১৯১১সালে চট্টগ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন প্রীতিলতা।আদর করে তাঁর মা তাঁকে ডাকতেন ‘রাণী’ বলে।প্রীতিলতার মায়ের নাম প্রতিভা দেবী, আরবাবাজগবন্ধুওয়াদ্দেদার।চট্টগ্রামেরখাস্তগীরবালিকাবিদ্যালয়থেকেপ্রথমবিভাগেম্যাট্রিকপাশকরেছিলেনপ্রীতিলতা।তারপরভর্তিহনঢাকাইডেনমহিলাকলেজে।উচ্চমাধ্যমিকপরীক্ষায়ঢাকাবোর্ডেপ্রথমস্থানঅধিকারকরেছিলেনতিনি।

কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে দর্শনশাস্ত্রে গ্রাজুয়েশন করেন প্রীতিলতা।ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ছিলেন রাজনৈতিকভাবে সচেতন।গ্রাজুয়েশন শেষ করে চট্টগ্রামের একটি স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেছিলেন তিনি।সেসময় ধীরেধীরে সচেতন হতে থাকেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে।এক ভাইয়ের কাছথেকে জানতে পারেন মাস্টারদা সূর্যসেন-এর বিপ্লবী চেতনা সম্পর্কে।তারপর একসময় তিনিই হয়ে ওঠে সূর্যসেনের সহযোদ্ধা।

১৯৩২সালেরকথা, পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পড়ে প্রীতিলতার ওপর। ‘কুকুর ও ভারতীয়দের প্রবেশনিষিদ্ধ’ – এমন একটি কথা ক্লাবটি থেকে প্রচার করা হতো।সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ পুরুষের ছদ্মবেশে ক্লাবটিতে সফলভাবে আক্রমণ চালান প্রীতিলতা ও অন্য বিপ্লবীরা।কিন্তু ফেরার পথে চারপাশ থেকে পুলিশ ঘিরে ফেলতে শুরু করে তাদেরকে।প্রীতিলতা গুলিবিদ্ধ হন।এমন অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া অসম্ভব ঠেকলে পুলিশ বাহিনীর হাতে গ্রেফতার ঠেকাতে পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে আত্মহুতি দেন এ অগ্নিকন্যা।