ইতিহাসের এই দিনে

ভারতীয় ক্রিকেটার রমন লাম্বা-এর স্মরণে

২৩শে ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮

রমন লাম্বা, সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার। খুব বেশিদিন স্থায়ী হয়নি রমন লাম্বার ক্রিকেট ক্যারিয়ার। ১৯৮৬ সালে ক্রিকেটে অভিষেকের পর ১৯৮৯ সালেই শেষ ম্যাচ খেলেন এই ব্যাটসম্যান। তিনি সর্বমোট ৪টি টেস্ট ও ৩২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। এরপর অবশ্য ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি। ইংলিশ কাউন্ট্রি, আইরিশ লিগ, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন ভারতীয় এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু নিয়তির চরম পরিহাসে ১৯৯৮ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৩শে ফেব্রুয়ারি, মাত্র ৩৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুকে বরণ করে নেন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলতে এসে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে বলের আঘাতে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরম বন্ধু ছিলেন এই অমিত সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।  

১৯৯৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার ঘরোয়া আসরে মুখোমুখি হয়েছিল আবাহনী ও মোহামেডান। সেদিন আবাহনী হয়ে মাঠে নেমে ছিলেন রমন লাম্বা। আবাহনী তখন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। ক্রিজে ছিলেন মেহরাব হোসেন অপি। অধীর আগ্রহে শেষ উইকেটের অপেক্ষা করছিলেন রমন লাম্বা। শফিউল্লাহ খানের খাটো লেন্থের বলে পুল করলেন অপি। আর বল গিয়ে লাগলো রমন লাম্বার মাথায়। মাথায় লেগে বলটি ফিরে এসে প্রায় ১০ গজ দূরে, যেখানে দাঁড়িয়ে ক্যাচ ধরেন উইকেটকিপার খালেদ মাসুদ পাইলট। কিন্তু ততক্ষণে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছেন রমন লাম্বা। কিছুক্ষণ পর তিনি হেঁটে ড্রেসিংরুমেও যান। কিন্তু ড্রেসিংরুমে ফিরেই বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন রমন লাম্বা। সেদিন তাঁর হারানো জ্ঞান আর কোনোদিনই ফিরে আসেনি। আশির দশকে বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে যে কয়েকজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে আসতেন, তার মধ্যে রমন লাম্বা ছিলেন অন্যতম। প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছেন তিনি।

দেশের ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার খ্যাত এই মহান বন্ধুকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে থাকে বাংলাদেশ। রমন লাম্বা-এর নামানুসারে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের একটি স্ট্যান্ডের নামকরণ করা হয়।