ভ্রমন গল্প

রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদ

রাজপ্রাসাদ মানে অতীত আর অতীত থেকে ছিটকে বর্তমানে চলে আসা অনেকগুলো স্মৃতি। রাজা সীতারামের রাজপ্রাসাদও ঠিক তেমনই একটি স্থান। রাজা সিতারাম রায় ছিলেন উত্তর রাঢ়ীয় কায়স্থ, তিনি চিত্র গুপ্তের পুত্র। মাগুরা জেলা শহর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে মধুমতি-নবগঙ্গা নদী তীরের জনপদ মহম্মদপুর। এই মহম্মদপুরেই ছিল একটি রাজ্যের রাজধানী। রাজ্যের নাম ছিল ভূষণা (বর্তমান ফরিদপুর-মাগুরা)। এ রাজ্যের রাজা ছিলেন রাজা সীতারাম রায়।

রাজা উপাধি লাভের পর সীতারাম রাজার মতোই রাজ্য বিস্তার করতে থাকেন এবং সেনাবল বৃদ্ধি করে তিনি পার্শ্ববর্তী জমিদারদের ভূ-সম্পত্তি দখল করেন। তিনি নবাব সরকারের রাজস্ব প্রদান বন্ধ করে স্বাধীন, সার্বভৌম রাজার মতোই জমিদারিতে প্রত্যাবর্তন করেন নিজস্ব শাসনব্যবস্থা।

জমিদারি সুরক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে সীতারাম এ স্থানটিতে গড়ে তোলেন অসংখ্য দুর্ভেদ্য দুর্গ, কাঁচারি বাড়ি পরিখা পরিবেষ্টিত রাজপ্রাসাদ, পূজা-অর্চনার জন্য দেবালয় নির্মাণ, জনহিতার্থে খনন করেন বেশ কিছু বিশালাকার জলাশয়।

মহম্মদপুরে সীতারামের বহু কীর্তি আজিও বিদ্যমান আছে। উহাদের মধ্যে প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ, রাম সাগর, সুখ সাগর ও কৃষ্ণসাগর নামে দীঘি, দোল মঞ্চ ও রাজভবনের ধ্বংসাবশেষ সিংহদরওজা, মালখানা, তোষাখানা, দশভুজা মন্দির, লক্ষ্মী নারায়ণের অষ্টকোন মন্দির, কৃষ্ণজীর মন্দির প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

মাগুরা সদর হতে ২৮ কি.মি. দূরে মহম্মদপুর উপজেলায় রাজাবাড়ী নামক স্থানে রাজা সীতারাম রায়ের বাড়িটি অবস্থিত। মহম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার উত্তরে পাকা রাস্তার পার্শ্বে রাজবাড়ির অবস্থান। রিক্সা, ভ্যান অথবা পায়ে হেটে যাতায়াত করা যায়। তাই খুব সহজেই রাজবাড়ীতে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনি।