ভ্রমন গল্প

ধর্মসাগর দীঘি

মানুষ চলে যায়, তবে নিজের স্মৃতি রেখে যায়। ধর্মসাগর দিঘীও ঠিক এমনই একটি স্থান। কুমিল্লায় এই দীঘির অবস্থান। কুমিল্লা শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বিশাল আকারের দীঘিটিই হল ধর্মসাগর দীঘি (Dharmasagar Dighi)। রাজা ধর্মপালের নামানুসারে এই দীঘির নাম হয়েছে ধর্মসাগর দীঘি। প্রায় ২০০-২৫০ বছর আগে আনুমানিক ১৭৫০ অথবা ১৮০৮ খ্রিস্টাব্দে প্রজাহিতৈষী রাজা ছিলেন ধর্মপাল। তিনি ছিলেন পাল বংশের রাজা। বাংলায় তখন ছিল দুর্ভিক্ষ। রাজা দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের সাহায্যের জন্য এই দীঘিটি খনন করেন। এই অঞ্চলের মানুষের জলের কষ্ট নিবারণ করাই ছিল রাজার মূল উদ্দেশ্য। সাগর নাম দিয়ে দেশে যে কয়টি দীঘি রয়েছে ধর্মসাগর তার মধ্যে অন্যতম। বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের আলো যখন তেজহীন হয়ে আসতে থাকে, ঠিক তখনই শত শত দর্শনার্থীর পদভারে ধীরে ধীরে মুখরিত হতে থাকে ধর্মসাগর পাড়। এ যেন এক মিলন মেলা। ধর্মসাগরের উত্তর কোণে রয়েছে কুমিল্লার শিশুপার্ক। এই শিশুপার্কে বসে সাগরের দৃশ্য উপভোগ করা যায়, সবুজ শ্যামল ও বিশাল বড় গাছ নিয়ে এই শিশুপার্ক। এই শিশুপার্কে বসলে মন ভরে যায় ভালো লাগার পরশে।

বর্তমানে এটি বেশ পরিচিত একটি পর্যটনস্থল হয়ে গিয়ে দীঘিপাড়ের সবুজ বনানী ধর্মসাগরকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। থরে থরে সাজানো বড় বড় গাছের সারি। তার মাঝে সিমেন্টে বাঁধানো বেঞ্চ। এক কথায় অপূর্ব। বিকেল বেলাটা যারা ঘুরতে চান তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান। আপনি ইচ্ছে করলে নৌকা ভাড়া করে দিঘির চার পাশ ঘুরে আসতে পারেন। এটি আপনার জন্য হতে পারে একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা।ছে, ঢাকা থেকে বাসে করে কুমিল্লার শাসনগাছিতে নামতে হবে। এরপর সেখান থেকে রিকশা করেই ধর্মসাগর দীঘির কাছে পৌঁছে যেতে পারবেন আপনি।